সরিষা চাষ

লিখেছেন .

তারিখ .June 19, 2016.... বিভাগ. .সরিষা

সরিষা আমাদের দেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল। ভোজ্য তেল আমদানী নির্ভর আমাদের দেশে সরিষা চাষের গুরুত্ব কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।সরিষার সাথে বাড়তি পাওনা হিসেবে করতে পারেন মৌ চাষ।সরিষার রয়েছে অসাধারন পুষ্টিগুন। সরিষার তেল আবহমান কাল ধরেই রান্নায় তো বটে, আচার তৈরির উপকরন হিসেবে, গায়ে মাখা বা মালিশ করার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে।

পুষ্টিগুন: সরিষার তেল ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ। খনিজের মধ্যে সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম, জিঙ্ক এবং বেটা ক্যারোটিন থাকে। আর থাকে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। সরিষার তেল ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফ্যাটি এ্যাসিড সমৃদ্ধ।

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
মাটি নির্বাচন: সরিষা চাষে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি বেশী উপযুক্ত।

জাত নির্বাচন: সোনালী সরিষা, বারি সরিষা-৬, ৭, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, টরি-৭,কল্যাণীয়া, রাই-৫, দৌলত।

জাতের বৈশিষ্ট্য, ফলন ও জীবনকালসহ বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।

জমি প্রস্তুতকরণ: জমি তৈরিতে অবস্থাভেদে ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিতে হবে। পানি নিকাশ ও সেচের জন্য জমিতে প্রয়োজনমতো নালার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বীজের পরিমাণ: সাধারণত এক হেক্টর জমির জন্য জাত ভেদে ৬-৮ কেজি বীজ দরকার হয়।

বীজ শোধন: বপনের আগে ভিটাভেক্স বা প্রোভেক্স (২-৩ গ্রাম/প্রতি কেজি বীজ) দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে।
বপন পদ্ধতি:সরিষা বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বোনা হয়। সার, সেচ ও নিড়ানীর সুবিধার জন্য সারি করে বোনা ভাল। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৩০ সেমি ।
বপনের সময়:বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে টরি-৭,কল্যাণীয়া, সোনালী সরিষা, বারি সরিষা-৬, বারি সরিষা-৭, বারি সরিষা-৮, বারি সরিষা-৯, বারি সরিষা-১৪ ও বারি সরিষা-১৫ এর বীজ মধ্য-আশ্বিন থেকে মধ্য-কার্তিক মাস (অক্টোবর) পর্যন্ত বোনা যায়। বারি সরিষা-১১, বারি সরিষা-১৬, রাই-৫ এবং দৌলত কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ (মধ্য-অক্টোবর থেকে মধ্য-নভেম্বর) মাস পর্যন্ত বপন করা যেতে পারে। বিভিন্ন অঞ্চলের তারতম্য এবং জমির জো অবস্থা অনুসারে বারি সরিষা-১১, বারি সরিষা-১৩ ও বারি সরিষা-১৬ জাতের বীজ কার্তিক মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যমত্ম (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর) বপনের উপযুক্ত সময়।

সার প্রয়োগ :সার মাটির অবস্থা ও গুণাগুণ দেখে পরিমাণ মতো দেয়া উচিত। জমির উর্বরতা ভেদে সারের মাত্রা কম-বেশী হয়।

mustard

 

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা : বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর এবং ফুল আসার সময় নিড়ানি দিতে হয়।

সেচ প্রয়োগ : বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে (গাছে ফুল আসার আগে) প্রথম সেচ এবং ৫০-৫৫ দিনের মধ্যে (ফল ধরার সময়) দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে। বপনের সময় মাটিতে রস কম থাকলে চারা গজানোর ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি হালকা সেচ দিতে হয়।

পোকা দমন :

১. জাব পোকা :
আক্রমনের লক্ষণ: পাতা কুঁকড়ে যায় এবং আক্রান্ত অংশ কালো দেখায়।
ব্যবস্থাপনা: জৈবিক: আগাম সরিষা বপন করলে আক্রমনের সম্ভাবনা কম।
রাসায়নিক : Imidacloprid (টিডো/ ইমিটাফ) ০.৫ মিলি/প্রতি লিটার হারে অথবা Thiamethoxam (একতারা)/ ০.২ গ্রাম/ প্রতি লিটার হারে মিশিয়ে বিকালে স্প্রে করতে হবে।
jabpoka_02

রোগ দমন :

১. পাতা ঝলসানো :
আক্রমনের লক্ষণ: প্রাথমিক অবস্থায় সরিষা গাছের নিচের বয়স্ক পাতায় এ রোগের লক্ষণ পরিলক্ষতি হয়৷পরবর্তীতে গাছের পাতা এবং শুঁটিতে গোলাকার, গাঢ় বাদামী দাগের সৃষ্টি হয়৷ দাগগুলো ধূসর, গোলাকার সীমারেখা দ্বারা আবদ্ধ থাকে৷ অনেকগুলো দাগ একত্রিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে৷ আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাতা ঝলসে যায়৷
ব্যবস্থাপনা: ক) অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের ১ম সপ্তাহের মধ্যে সরিষার বীজ বপন করলে এ রোগের আক্রমণ কম হয়৷
খ) বীজ শোধনঃ বপনের পূর্বে বীজ প্রভেক্র-২০০ দ্বারা শতকরা ০.২৫ ভাগ হারে (২.৫ গ্রাম ছত্রাকনাশক/ কেজি বীজ) শোধন করে বপন করতে হবে৷
গ) ছত্রাকনাশক প্রয়োগঃ এ রেগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে Iprodione (রোভরাল/রোভানন) ২ গ্রাম/ প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
blight img
২.পরজীবী উদ্ভিদজনিত রোগ:
আক্রমনের লক্ষণ: এ পরজীবী উদ্ভিদ সরিষা গাছের শিকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করে খাদ্য সংগ্রহ করে, ফলে পরজীবী আক্রান্ত সরিষার গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়।
ব্যবস্থাপনা: ক) পরজীবী উদ্ভিদ ফুল আসার পূর্বেই তুলে ফেলতে হবে।খ) পরিমিত হারে টিএসপি সার ব্যবহার করতে হবে।
গ) আগাছা নাশক যেমন ২,৪-ডি অথবা Pull 5 EC ০.৫/ ২ গ্রাম/ প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করে পরজীবী উদ্ভিদ দমন করতে হবে।
porjibi

ফসল সংগ্রহ : টরি জাতীয় সরিষা ৭০-৯০ দিন এবং রাই জাতীয় সরিষা ৯০-১০০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়।

 

 

♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦

Leave a Reply

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা পুরোপুরি বা আংশিক নকল করে অন্য কোথাও প্রকাশ/প্রিন্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে অব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কোন প্রকার অনুমুতি ছাড়াই কন্টেনসমূহ ব্যবহার করা যাবে। সূত্রসহ সম্পূর্ণ লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে।

Designed & Developed by Alamgir Hossain

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.