মুগ ডাল চাষ

লিখেছেন .

তারিখ .June 20, 2016.... বিভাগ. .মুগ

উদ্ভিজ্জ আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে ডাল।আমাদের মাটিতে বয়েছে ডাল চাষের সম্ভাবনা।মুগ ডাল তার মধ্যে অন্যতম। মগডাল চাষে যেম স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করলে ডালের আমিষ মাংসের চেয়ে অনেক গুণে ভালো। কারণ এতে নেই ক্ষতিকর ফ্যাট । ডাল ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের জন্য সমান উপযোগী ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। অসাধারন গুনসম্পন্ন ,সস্তায় ও সহজে প্রাপ্য এ ডালকে তাই গরিবের আমিষ বলা হয়।
পুষ্টিগুন: আমিষ, প্রোটিন ও পুষ্টির উৎস ডাল। সব ঋতুতে জনপ্রিয় এ খাদ্য উপকরণ। প্রায় সব ডালেই আমিষ, শর্করা, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, নিয়াসিন, ক্যারোটিন, লৌহ ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে। এছাড়াও ডালে পর্যাপ্ত আঁশ, খনিজ ও অপরিসীম খাদ্যশক্তি রয়েছে।

পুষ্টিগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন…

মাটি নির্বাচন: মাঝারি উঁচু পানি জমে না এমন বেলে দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটি মুগ আবাদের জন্য উপযোগী।
জাত নির্বাচন: বিএআরআই উদ্ভাবিত বারি মুগ-২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ (স্বল্প জীবনকাল) এবং বিনা উদ্ভাবিত

বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য, ফলন ও জীবনকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন…

জমি প্রস্তুতকরণ: ৩-৪ টি আড়াআড়ি চাষ ও প্রয়োজনীয় মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হবে।

বীজের পরিমাণ: বারি-মুগ-২, ৩ ও ৪ এর জন্য ২৫-৩০ কেজি/ প্রতি হেক্টর। বারি মুগ-৫ এর জন্য ৪০-৪৫ কেজি। তবে ছিটিয়ে বপন করলে বীজের সামান্য বেশি দিতে হবে।

বীজ বপণ: খরিফ-১: ফাল্গুন মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত (ফেব্রুয়ারি শেষ ভাগ হতে মার্চের মধ্য-ভাগ)

খরিফ-২: শ্রাবণ-ভাদ্র মাস (আগস্টের প্রথম হতে সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ)।

সারি করে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেমি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৭-৮ সেমি. বজায় রাখতে হবে।
সার প্রয়োগ: সার মাটির অবস্থা ও গুণাগুণ দেখে পরিমাণ মতো দেয়া উচিত। জমির উর্বরতা ভেদে সারের মাত্রা কম-বেশী হয়।

mug

 

সেচ ও নিকাশ: খরিফ-১ মৌসুমে বৃষ্টি না হলে বপনের পূর্বে বা পরে একটি সেচ দিতে হবে। সেচ দিলে চারা গজানোর পর মালচিং করে দিতে হবে। অতিবৃষ্টির ফলে যাতে পানি না জমে তাই পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
পরিচর্যা: বপন করার ২৫-৩০ দিনের মধ্যে একবার আগাছা দমন করতে হবে।
পোকা দমন :

১. বিছা পোকা :mugbeanhairycaterpillar (2)
আক্রমনের লক্ষণ: পাতার উল্টো পিঠের সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে সাদা পাতলা পর্দার মত করে ফেলে।এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যপক ক্ষতি সাধন করে ।
ব্যবস্থাপনা: জৈবিক:- ১. পাতায় ডিমের গাদা দেখলে তা তুলে ধ্বংস করতে হবে।
২. ডিম আথবা আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে তখন পোকা সমেত পাতাটি তুলে পায়ে মাড়িয়ে বা গর্তে চাপা দিয়ে মারতে হবে।
৩. ভালভাবে পোকা দমন করতে হলে ক্ষেতের আশে পাশে বা অন্য আগাছা থাকলে তা পরিস্কার করে ফেলতে হবে।
রাসায়নিক: কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ভিটাব্রিল ৮৫ ডব্লিউপি ৩ গ্রাম বা সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: কট ১০ ইসি ১ মিলি বা সিমবুশ ১০ ইসি ০.৫ মিলি./ লি হারে পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
২. পাতা সুরঙ্গকারী পোকাmugbeanleafrollar (2)
আক্রমনের লক্ষণ: ক্ষুদ্র কীড়া পাতার দুইপাশের সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। তাই পাতার উপর আঁকা বাঁকা রেখার মত দাগ পড়ে এবং পাতা শুকিয়ে ঝড়ে যায় ।
ব্যবস্থাপনা:জৈবিক:- ১. আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা বা পুড়ে ফেলা।
২. আঠালো হলুদ ফাঁদ স্থাপন করা ।
রাসায়নিক:- সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ( যেমন: কট ১০ ইসি) ১ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।
৩.পাতা মোড়ানো পোকা:
আক্রমনের লক্ষণ: কীড়া অবস্থায় পাতা মোড়ায় এবং সবুজ অংশ খায় । এটি সাধারণত কচি পাতাগুলোতে আক্রমণ করে থাকে।ব্যবস্থাপনা: জৈবিক:- ক) পোকাসহ আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা ।
খ) ক্ষেতে ডাল পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা ( বিঘা প্রতি ৮-১০ টি)।
রাসায়নিক: সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ( যেমন: কট ১০ ইসি) ১ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।
৪.ফল ছিদ্রকারী পোকা :mugbeanpodborer (1)
আক্রমনের লক্ষণ: এ পোকা মুগের ফল ছিদ্র করে ক্ষতি করে ।ব্যবস্থাপনা: জৈবিক:-(ক) আক্রন্ত গাছ সংগ্রহ করে ধ্বংস করা ।
(খ) ক্ষেতে ডাল পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা ( বিঘা প্রতি ৮-১০ টি)।
রাসায়নিক: সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: রিপকর্ড ১০ ইসি বা ওস্তাদ ১০ ইসি ২ মিঃলিঃ মিশিয়ে ভালভাবে স্প্রে করা।

রোগ দমন :

১. পাতার দাগরোগ :patar dag
আক্রমনের লক্ষণ: ছক্রাকের আক্রমনে পাতায় বৈশিষ্টপূর্ণ দাগ দেখা যায় ।
ব্যবস্থাপনা: ১. আক্রান্ত পাতা ও ডগা অপসারণ করা।
২. বীজ লাগানোর আগে প্রোভ্যাক্স প্রতি কেজি বীজের জন্য ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করা ।
৩. কার্বেন্ডাজিম ১ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করা।
২.পাউডারী মিলভউ pawdari milview:
আক্রমনের লক্ষণ: পাতা ও গাছের গায়ে সাদা পাউডারের মত দাগ দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে সমস্ত পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত বেশী হলে পাতা হলুদ বা কালো হয়ে মারা যায় ।
ব্যবস্থাপনা: ১.আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করা ।
২. প্রপিকোনাজল (টিল্ট ২৫০ইসি) ০.৫মিঃলিঃ/প্রতি লিটার পানি মিশিয়ে স্প্রে করা।
২.মোজাইক:mojaik
আক্রমনের লক্ষণ: গাছে হলুদ ও গাঢ় সবুজ ছোপ ছোপ মোজাইক করা পাতা দেখা দেয় ।
ব্যবস্থাপনা: (১) ক্ষেত থেকে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা/ ডাল কেটে দেয়া অপসারণ করা।
(২) ভাইরাসের বাহক পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রিড ( এডমেয়ার, টিডো, ইমিটাফ ইত্যাদি) ১ মিলি /প্রতি লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ : মধ্য-কার্তিক থেকে শেষ ভাগ (অক্টোবর শেষ থেকে নভেম্বর প্রথম)।

♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦

Leave a Reply

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা পুরোপুরি বা আংশিক নকল করে অন্য কোথাও প্রকাশ/প্রিন্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে অব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কোন প্রকার অনুমুতি ছাড়াই কন্টেনসমূহ ব্যবহার করা যাবে। সূত্রসহ সম্পূর্ণ লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে।

Designed & Developed by Alamgir Hossain

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.