ভূট্টা চাষ

লিখেছেন .

তারিখ .June 20, 2016.... বিভাগ. .ভূট্টা

ভুট্টা একটি চমৎকার খাবার। ভুট্টার খই, ভুট্টার ময়দা বা রকমারী রান্নায় ব্যবহার ভুট্টাকে আরো কত কি। কর্নফ্ল্যাওয়ার, কর্নফ্লেকস এগুলো কমবেশি জনপ্রিয় খাবার। কচি ভুট্টা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সবমিলিয়ে ভুট্টা পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি স্বাস্থ্যপ্রদ খাবার।ভুট্টার ফলনও হয় বাম্পার। ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

পুষ্টিগুন: ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী। এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন “এ” থাকে।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মুতে ভুট্টায় লৌহ এবং গুরুত্বপূর্ণ জিঙ্ক উপাদানও যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। ভুট্টা পটাশিয়ামের একটি আদর্শ উৎস, অন্যদিকে রক্তচাপ বৃদ্ধিকারী সোডিয়ামের পরিমাণ কম ।

পুষ্টিগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন…

মাটি নির্বাচন: পানি জমে থাকে না এমন বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী।

জাত নির্বাচন: উফশী জাত: বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর, খই ভূট্টা, মোহর, বারি ভূট্টা- ৫, ৬, ৭।

হাইব্রিড জাত : বারি হাইব্রিড ভূট্টা-১,২,৩,৪,৫,৭,৮,৯,১০,১১, সাইশাইন, এনকে-৪০, ডন প্রভৃতি।

বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য, ফলন ও জীবনকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন…
বীজের পরিমাণ: শুভ্রা, বর্ণালী ও মোহর জাতের ভুট্টার জন্য হেক্টর প্রতি ২৫-৩০ কেজি এবং খইভুট্টা জাতের ১৫-২০ কেজি হারে বীজ বুনতে হবে।
বীজ শোধন: বপনের আগে ভিটাভেক্স বা প্রোভেক্স (২-৩ গ্রাম/প্রতি কেজি বীজ) দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে।

বীজ বপণ: বাংলাদেশে রবি মৌসুমে মধ্য-আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) এবং খরিফ মৌসুমে ফাল্গুন থেকে মধ্য-চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারী-মার্চ) পর্যন্ত সময় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৭৫ সেমি। সারিতে ২৫ সেমি দূরত্বে ১টি অথবা ৫০ সেমি দূরত্বে ২টি গাছ রাখতে হবে।

সার প্রয়োগ: সার মাটির অবস্থা ও গুণাগুণ দেখে পরিমাণ মতো দেয়া উচিত। জমির উর্বরতা ভেদে সারের মাত্রা কম-বেশী হয়।

maize

সেচ ও নিকাশ: ভুট্টার আশানুরূপ ফলন পেতে হলে রবি মৌসুমে ৩-৪টি সেচ দেয়া উচিত।
১ম সেচ: বীজ বপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে (৪-৬ পাতা হলে)
২য় সেচ:বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে (৮-১২পাতা হলে)
৩য় সেচ:বীজ বপনের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে (মোচা বের হলে)
৪র্থ সেচ:বীজ বপনের ৮৫-৯৫ দিনের মধ্যে (দানা বাঁধার পূর্বে)
ভুট্টার ফুল ফোটা ও দানা বাঁধার সময় কোন ক্রমেই জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া যাবে না।
পরিচর্যা: চারা গজানোর ৩০ দিনের মধ্যে জমি থেকে অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স এক মাস না হওয়া পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। আগাছা দমনে ডুয়েল গোল্ড ৯৬০ ইসি, ৪০০ এম এল / একর হারে ব্যবহার করা যায়।

পোকা দমন :

১. কাটুই পোকা :
আক্রমনের লক্ষণ: চারা গাছের গোড়ায় মাটি বরাবর কেটে দেয়। তীব্র আক্রমণে ক্ষেত প্রায় চারা শূন্য হয়ে পড়ে।।
ব্যবস্থাপনা: ক্যারটে ২.৫ ইসি-৩ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য( ১.৫ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
Maize Cut worm
২. মোচার কীড়া
আক্রমনের লক্ষণ: ভূট্টার কচি মোচা আক্রমন করে। আক্রান্ত মোচা পচে যায়।
ব্যবস্থাপনা: সবিক্রন ৪২৫ ইসি ৪ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য( ২ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
mocher kira

রোগ দমন :

১. পাতা ঝলসানো রোগ :
আক্রমনের লক্ষণ: পাতায় লম্বাটে ধূসর বর্নের দানা দেখা যায় এবং পরবর্তিতে গাচের উপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা: প্রপিকোনাজল (টিল্ট/ প্রাউড) ২ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য ( ১ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
pata jalsano
২. কান্ড পচা
আক্রমনের লক্ষণ: গাছের কাণ্ড পচে যায় এবং গাছ মাটিতে ভেঙ্গে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা: হেক্সাকোনাজল/ডাইকোফেনাজল (হেকোনাজল/স্কোর ) ১ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য( ০.৫ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
kando pocha
৩.মোচা ও দানা পচা:
আক্রমনের লক্ষণ: মোচার খোসা ও দানা বিবর্ন হয়ে সমস্ত মোচা পচে যায়। দানা পুষ্ট হয় না, কুচকে অথবা ফেটে যায়।
ব্যবস্থাপনা: প্রপিকোনাজল (টিল্ট/ প্রাউড) ২ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য( ১ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
dana pocha

ফসল সংগ্রহঃ মোচা ৭৫-৮০% পরিপক্ব হলে ভুট্টা সংগ্রহ করা যায়। পাতা কিছুটা হলদে হলে এবং মোচা চকচকে খড়ের রং ধারণ করলে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। সংগৃহীত মোচা ত্রিপল বা চাঁদর বিছিয়ে তার উপর পরপর ৩-৪ দিন খুব ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। মাড়াই যন্ত্রের সাহায্যে অনেক সহজেই এবং তাড়াতাড়ি ভুট্টার দানা ছাড়ানো যায়।

♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦

Leave a Reply

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা পুরোপুরি বা আংশিক নকল করে অন্য কোথাও প্রকাশ/প্রিন্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে অব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কোন প্রকার অনুমুতি ছাড়াই কন্টেনসমূহ ব্যবহার করা যাবে। সূত্রসহ সম্পূর্ণ লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে।

Designed & Developed by Alamgir Hossain

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.