কলা চাষ

লিখেছেন .

তারিখ .June 22, 2016.... বিভাগ. .কলা

সবার একটি পরিচিত ফল হলো কলা। কলা সারা বছর পাওয়া যায়। নিয়মিত কলা খেলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।প্রাগাধুনিক ভারতীয় অর্থনীতিতেও একটি প্রধান অর্থকরী ফসল হিসাবে কলার চাষাবাস হতো। বাংলাদেশে কলা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সারা বছর এ দেশের প্রায় সব অঞ্চলের উঁচু জমিতেই এর চাষ করা যায়।

পুষ্টিগুণ
কলা দৈনন্দিন অনেক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে দেহকে সুস্থ কলায় রয়েছে মিনারেল, আয়রন, ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ ৷ এসবের মিশ্রণ ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

মাটি নির্বাচন: উর্বর দোআঁশ মাটি যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায় এমন উঁচু জমি কলা চাষের জন্য উপযুক্ত।

জাত নির্বাচন:
স্থানীয়: অমৃত সাগর, চাম্পা, চিনি চাম্পা, সবরি, প্রভৃতি।
বারি উদ্ভাবিত: বারি কলা-১, বারি কলা-২, বারি কলা-৩, বারি কলা-৪।

জমি তৈরি ও গর্ত খনন
গভীর করে জমি চাষ করতে হবে। গর্ত থেকে গর্তের দূরত্ব হবে দুই মিটার। গর্তের আকার হবে ৬০ সেমি x ৬০ সেমি । চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পূর্বেই গর্ত খনন করে গর্তে গোবর ও টিএসপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত বন্ধ করতে হবে।

রোপণের সময়
বছরের তিন সময়ে কলার চারা রোপণ করা যায়।
১ম রোপণঃ আশ্বিন-কার্তিক (মধ্য-সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য-নভেম্বর)।
২য় রোপণঃ মাঘ-ফাল্গুন (মধ্য-জানুয়ারি থেকে মধ্য-মার্চ)।
৩য় রোপণঃ চৈত্র-বৈশাখ (মধ্য-মার্চ থেকে মধ্য-মে)।

চারা রোপণ
সচারচর খাটো জাতের ক্ষেত্রে ৩৫-৪৫ সেমি ও লম্বা জাতের ক্ষেত্রে ৫০-৬০ সেমি দৈর্ঘৌর তেউর ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে অসি তেউড় উত্তম। অসি তেউড়ের পাতা সরু, সূচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মত, গুড়ি বড় ও শক্তিশালী এবং কান্ড ক্রমশ গোড়া থেকে উপরের দিকে সরু হয়। তিন মাস বয়সী সুস্থ তেউড় রোগমুক্ত বাগান থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

সার প্রয়োগ:
সার মাটির অবস্থা ও গুণাগুণ দেখে পরিমাণ মতো দেয়া উচিত। জমির উর্বরতা ভেদে সারের মাত্রা কম-বেশী হয়।

kola

সেচ ও নিকাশ: জমিতে রসের অভাব হলে সেচ দিতে হবে ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

পরিচর্যা: মোচা আসার পূর্বে গাছের গোড়ায় কোন তেউড় রাখা যাবে না। মোচা আসার পর গাছপ্রতি ১টি তেউড় রাখতে হবে।

পোকা দমন :

১. কলার পাতা ও ফলের বিটল পোকাbitol 2bitol poka
আক্রমনের লক্ষণ:এ পোকা কচি পাতার সবুজ অংশ নষ্ট করে। ফলে দাগের সৃষ্টি হয়। কলা বের হওয়ার সময় এ পোকা মোচার মধ্যে ঢুকে কচি কলার রস চুষে খায়। ফলে কলার গায়ে দাগ হয়। ফলে কলার বাজার মূল্য কমে যায়।প্রতিকার
১. মোচা বের হওয়ার সময় ছিদ্রবিশিষ্ট পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে।
২. সেভিন ৮৫ ডবিস্নউ পি ২ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য(১ গ্রাম/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১৫ দিন পর পর ২ বার গাছের পাতার উপরে ছিটাতে হবে।

রোগ দমন :

১. কলার পানামা রোগ দমনpanama
আক্রমনের লক্ষণ: এ রোগে আক্রান্ত গাছ আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়ে পাতা হলদে হয়ে শুকিয়ে যায়। গাছের নিচের অংশের পাতাগুলো প্রথমে আক্রান্ত হয়ে আস্তে আস্তে ওপরের পাতাগুলো আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আক্রান্ত গাছে মোচা আসে না, এলেও তা পচে যায়।কোন কোন সময় গাছ লম্বালম্বি ভাবে ফেটেও যায়। অভ্যন্তরিণ লক্ষণ হিসেবে ভাসকুলার বান্ডেল হলদে-বাদামি রং ধারণ করে।
প্রতিকার:
১. আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে।
২. আক্রান্ত গাছের তেউড় চারা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
৩. প্রপিকোনাজল (টিল্ট, প্রাউড) ১ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য(০.৫ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১৫ দিন পর পর গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।
২. কলার সিগাটোকা রোগ দমনsigatoka
আক্রমনের লক্ষণ: আক্রান্ত গাছের পাতায় প্রথমে ছোট ছোট হলুদ দাগ দেখা যায়। পরে দাগগুলো একত্রিত হয়ে বড় হয় এবং ধহৃসর বর্ণের হয়। আক্রান্ত গাছে কলার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং কলার সংখ্যা কম হয়। বাগান দেখতে পোড়া বা ঝলসানো মনে হয়।প্রতিকার:
প্রপিকোনাজল (টিল্ট, প্রাউড) ১ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য(০.৫ এমএল/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১৫ দিন পর পর গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।অথবা,
কপার অক্সিক্লোরাইড(হেমক্সি/ সালকক্স) ১৩ গ্রাম ১ শতাংশ জমির জন্য(৬.৫ গ্রাম/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১৫ দিন পর পর গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
৩. কলার বানচি-টপ ভাইরাস রোগ দমনbanchi_top vairus
আক্রমনের লক্ষণ: এ রোগের আক্রমণে পাতা গুচ্ছাকারে বের হয়। পাতা আকারে খাটো, অপ্রশস্থ এবং উপরের দিকে খাড়া থাকে। কচি পাতার কিনারা উপরের দিকে বাঁকানো এবং সামন্য হলুদ রংয়ের হয়।
প্রতিকার:
১. আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ তুলে ফেলতে হবে।
২. বাহক ‘জাব পোকা’ ও থ্রিপস’ দমনে সেভিন ৮৫ ডব্লিউপি ২ এমএল ১ শতাংশ জমির জন্য(১ গ্রাম/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছের পাতার উপরে ছিটাতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ রোপণের পর ১১-১৫ মাসের মধ্যেই সাধারণত সব জাতের কলা পরিপক্ক হয়ে থাকে।

♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦◊♦

Leave a Reply

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা পুরোপুরি বা আংশিক নকল করে অন্য কোথাও প্রকাশ/প্রিন্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে অব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কোন প্রকার অনুমুতি ছাড়াই কন্টেনসমূহ ব্যবহার করা যাবে। সূত্রসহ সম্পূর্ণ লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে।

Designed & Developed by Alamgir Hossain